আপনার সোনামনি জনপ্রিয় বিষয়সমূহ কথা বলুন সন্তানের সাথে

কথা বলুন আপনার সন্তানের সাথে

জন্মের মুহূর্ত থেকেই আপনার সন্তান তার উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করে কান্নার মধ্য দিয়ে, চোখে চোখ রেখে এবং নানারকম মুখভঙ্গির মাধ্যমে। যোগাযোগ স্থাপনের প্রাথমিক এই ধাপগুলোই হচ্ছে আপনার সন্তানের ভাষার প্রথম প্রচেষ্টা। সন্তানের সাথে এসময় অবিরাম কথা বলে, গান গেয়ে এবং বই পড়ে শোনানোর মধ্য দিয়ে আপনি তার কথা বলায় সাহায্য করতে পারেন।

তবে এখানে একটি কথা বলে রাখি, সন্তানের সাথে কথা বলা কিন্তু শুরু হয় মায়ের পেটে থাকা অবস্থাতেই। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বাবা-মা গর্ভাবস্থায়ই তাদের সন্তানের সাথে কথা বলেন, গান শোনান, এমনকি গল্প পড়ে শোনান, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর সেই কণ্ঠস্বরগুলো চিনতে পারে খুব সহজেই। সেইসাথে কথা বলাটাও খুব তাড়াতাড়িই তাদের আয়ত্বে চলে আসে।


একেবারে ছোট অবস্থায় অন্য যেকোনো শব্দের তুলনায় আপনার শিশু সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট হয় আপনার গলার স্বরে। এর কারণ হচ্ছে তার মস্তিষ্ক কোন বাক্য, ধরণ এবং ভাষার যে ছন্দ আছে তা সহজেই চিনতে পারে।


তবে নিজে নিজে কথা বলার আগে তাকে যেকোনো তথ্য আদান-প্রদান করতে ও বুঝতে শিখতে হবে এবং যোগাযোগ স্থাপনের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। সেইসাথে কথা বলার জন্য শরীরের যেসব পেশী নিয়োজিত আছে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য শারীরিক সক্ষমতাও তার থাকা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজন সময়, আর আপনার সহায়তা। আপনিই পারেন তাকে এগুলো শিখিয়ে নিতে।


কথা বলুন সন্তানের সাথে:

কথা শুনে শুনেই আপনার সন্তান কথা বলতে শিখবে। পাশাপাশি শব্দ থেকেই সে আরেকটা শব্দকে আলাদা করতেও শিখবে।  কাজেই যতো বেশি আপনি ওর সাথে কথা বলবেন ততোই তার শব্দ শিখে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। কিছু কিছু গবেষকের মতে, সন্তানের সাথে যতো বেশি আপনি একা একা কথা বলবেন, এবং যত বেশি খেলবেন, ততোই তার ভাষা শেখা সহজ হয়ে যাবে। এমনকি দুবছর হওয়ার সাথে সাথে দেখবেন অনেক সুন্দর করে সে কথা বলতে শিখে যাবে, ভাষাও সমৃদ্ধ হবে। তার শব্দ ভাণ্ডার অনেক পরিপূর্ণ থাকবে।

ভাল শ্রোতা হয়ে যান:

যখনই দেখবেন আপনার সন্তান আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, কিছু বলার চেষ্টা করছে, কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনোযোগ এদিকে দিন, চোখে চোখ রাখুন, আর তার কথা শুনুন, সে কী বলছে। ভঙ্গি করুন যে, আপনিও তার সাথে কথা বলছেন। যখন সে থামবে, আপনি এমনভাবে আনন্দের সাথে কথা বলুন যেন, তার কথারই উত্তর দিচ্ছেন আপনি। আবার থেমে তাকে বলতে দিন। এভাবেই চলতে থাকুক কথার পিঠে কথা বলা খেলা। দ্বিমুখী প্রক্রিয়ায় কথা বলা সে শিখে যাবে অচিরেই। এক্ষেত্রে আপনি নিজেকে সঁপে দিন সন্তানের কাছে, দেখবেন সে প্রায়ই তখন আপনার সাথে অনেক গল্প করার চেষ্টা করবে।

মিউজিক, গান ও ছড়া:

এগুলো আপনার শিশুকে ছন্দের সাথে তাল মেলাতে শেখাবে, শুনতে শেখাবে, এতে অংশ নিতে হয় কি করে, তাও শেখাবে। আর এগুলো সবই যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মিউজিক হচ্ছে শিশুর প্রথম বয়সে সবচেয়ে কার্যকরি একটি মাধ্যম, অনেক কিছু সে শিখতে পারে মিউজিকের মাধ্যমে। আর মস্তিষ্কের যোগাযোগ প্রক্রিয়াও যেহেতু এ সময়টাতে শুরু হয়, তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপায় হচ্ছে এই মিউজিক।

গান এবং ছড়া যেহেতু বারংবার উচ্চারিত হয়, তাই এর মধ্য দিয়ে শারীরিক একটা প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়। এতে করে অনেকটা খেলাচ্ছলেই সে বিভিন্ন শব্দের সাথে পরিচিত হয়ে উঠে।

বই পড়ে শোনানো:

অনেক বাবা-মা বা অভিভাবকই হয়তো বাচ্চার বয়স নিয়ে ভাবেন যে, এটা বই পড়ে শোনানোর বয়স না। কিন্তু বই পড়ে শোনানোর জন্য বয়স কোন বিষয় না। বইয়ের মাধ্যমে সে ছবি দেখতে শিখবে, অনেক শব্দ শিখবে, সেইসাথে শোনার দক্ষতাও বাড়বে। একসাথে বসে ছবিওয়ালা বইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকাও কিন্তু গুণগতভাবে উল্লেখযোগ্য একটি সময়।  সুতরাং দিনের একটি সময় বের করুন, যখন আপনি সন্তানের সাথে বই নিয়ে সময় কাটাবেন। এর মধ্যে বিছানায় শুতে যাওয়ার আগের সময়টা বেছে নিন গল্প বলার সময় হিসেবে।

আপনার সন্তান দিন দিন যত বড় হবে, ততোই সে নিজে থেকে পড়তে চাইবে। কাজেই এমন বই বেছে নিন যেগুলোতে বেশ রঙীন ছবি আছে। তবে তার ছোট হাতে নিতে পারে এমন বই বেছে নিন। জন্ম থেকেই আপনার শিশু লাইব্রেরিতে যোগ দিতে পারে। কীভাবে? তার জন্য বই কিনুন, নিজেই তৈরি করে ফেলুন তার জন্য ছোট্ট কিন্তু সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি।