আপনার সোনামনি জনপ্রিয় বিষয়সমূহ শিশুর ঘুম

যত ভাবনা ছোটদের ঘুম নিয়ে

শিশুকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন না এমন বাবা-মা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শিশুকে নিয়ে বাবা-মায়ের নানা ধরনের দুশ্চিন্তার মধ্যে একটি হচ্ছে শিশুর ঘুম। রাতে শিশুর কম ঘুমের কারণে বাবা-মায়ের ঘুম নষ্ট হয় এমন অভিযোগ আমরা প্রায়ই শুনি। আবার এমনটাও শোনা যায়, আমার শিশুটা দিন-রাত এত ঘুমায় কেন? কোনো শারীরিক সমস্যা নেই তো? সব মিলিয়ে শিশুর কম ঘুম কিংবা বেশি ঘুম দুটি নিয়েই দুশ্চিন্তা করে প্রায় সব বাবা-মায়েরই ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।

 
শিশু বেশি ঘুমাচ্ছে না কম ঘুমাচ্ছে, এর কোনটা তার বয়সের স্বাভাবিক আচরণ এ সম্পর্কে ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আসলে প্রায় সব বাবা-মাই শিশুর ঘুম নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকেন। যার কারণে অনেক সময় শিশুর নির্দিষ্ট বয়সের স্বাভাবিক ঘুম হোক তা নিয়ে কম বা বেশি চিন্তিত থাকেন। আবার শারীরিক ও পারিপার্শ্বিক সমস্যার কারণে শিশু কম ঘুমাচ্ছে কিনা তা বুঝে উঠতেও সময় লাগে। জন্মের পরই কিছু মা-বাবা উদ্বিগ্ন থাকেন তাদের সন্তানের অত্যাধিক ঘুম নিয়ে। না খেয়ে শিশুর দীর্ঘক্ষণ ঘুমানো তাদের অবাক করে। প্রকৃত পক্ষে জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশু ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা ঘুমায়, তাই এটা অস্বাভাবিক নয়। আর শিশু যদি না খেয়ে দীর্ঘক্ষণ ঘুমায় তাতেও ভয়ের কিছু নেই, খিদে পেলে সে এমনিতেই জেগে ওঠবে।
অনেক শিশু দিনে বেশি ঘুমায় আর রাত প্রায় নির্ঘুম কাটায়। এসব শিশুকে নিয়ে বাবা-মায়ের বিড়ম্বনা একটু বেশিই। কারণ তাদের সঙ্গে সঙ্গে বাবা-মায়েদেরও প্রায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়। মূলত নবজাতক শিশুদেরই এই সমস্যাটি বেশি হয়। কারণ শিশু দীর্ঘদিন মাতৃগর্ভে থাকার কারণে পৃথিবীর আলোতে এসে দিন-রাত বুঝতে পারে না। তা ছাড়া শিশুর মগজের যে অংশ দিন ও রাত বুঝতে পারে তা পরিণত হতেও সময় লাগে। আর এ কারণেই মূলত নির্ঘুম রাত কাটায় নবজাতক। এভাবে চলে শিশুর বেশ কয়েকটা মাস।
ছয় মাস পর থেকে শিশু ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ঘুমায়। এর মধ্যে দিনে দুবার এক থেকে দেড় ঘণ্টার দুটি ঘুম শিশুর স্বাভাবিক ঘুম। দুবছরের পর থেকে শিশুদের দিনে একবার ঘুমের অভ্যাস করাতে হবে। অনেক শিশুই দিনে ঘুমায় না আবার অনেক রাত পর্যন্তও জেগে থাকে। সে ক্ষেত্রে বাবা-মাকেই সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে শিশুর দুপুরে ঘুমের অভ্যাস গড়ে ওঠে এবং রাতেও যাতে নির্দিষ্ট সময় ঘুমিয়ে পড়ে।
নবজাতক শিশু দিনে বেশি ঘুমিয়ে রাত জাগলে সে ক্ষেত্রে-
* দিনের বেলায় ঘরে উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখুন।
* পরস্পরের সঙ্গে উঁচুস্বরে কথা বলুন, শিশুর সঙ্গেও কথোপকথন চালান।
* দিনের বেলায় শিশুকে একদম নির্ঘুম রাখতে হবে তা কিন্তু নয়। শিশুকে দিনে দুই থেকে চারবার এক থেকে দেড় ঘণ্টা ঘুমাতে দিতে পারেন।
* তবে সন্ধ্যা ৬টার পর শিশু যেন না ঘুমায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
* দিনের বেলায় টিভি ও মিউজিক চালাতে পারেন, তাহলে শিশুর ঘুমভাব কেটে যাবে।
* শিশু যাতে দুধ খেতে খেতে ঘুমিয়ে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে পায়ে আলতো টোকা দিন।
* শিশুর দিনে ঘুম দূর করতে কুসুম গরম পানিতে সুতি কাপড় ভিজিয় শিশুর মুখ ও শরীর মুছে দিলে শিশুর ফ্রেশ লাগবে, ঘুমাবেও কম।
* রাতে নবজাতক শিশুকে স্বাভাবিক শব্দ, কথাবার্তার মধ্যেই ঘুমাতে দিন। যদি প্রথম থেকে শিশু ঘুমের সময় স্বাভাবিক শব্দ, কথাবার্তা বন্ধ রাখা হয় তবে শিশু বড় হয়েও ঘরের সব আলো, শব্দ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে পারবে না।
* নবজাতক ছাড়াও একটু বড় অনেক শিশুও রাত জেগে থাকে। বাবা-মা রাতে যখন ঘুমায় তখনই ঘুমাতে যায়। তা যত রাতই হোক। আবার বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়লেও শিশুর যেন ঘুম আসে না। অথচ পর্যাপ্ত ঘুম শিশুর জন্য অত্যন্ত জরুরি। সে ক্ষেত্রে-
* দিনের বেলা শিশুকে খেলাধুলা, দৌড়-ঝাঁপ করতে দিন। এতে সে ক্লান্ত থাকবে এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাবে।
* দুপুরে দেড় থেকে দুঘণ্টার একটি ঘুম এবং রাতে একটু তাড়াতাড়ি শিশুকে বিছানায় নিয়ে ঘুম পড়ানোর অভ্যাস প্রথম থেকেই গড়ে তুলুন।
* শিশুর ঘুমের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন। একেক দিন একেক সময় শিশুকে নিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করলে শিশুর রাতে ঘুম হবে না।
* শিশুকে বেশি রাত পর্যন্ত টিভি দেখার অভ্যাস থেকে বিরত রাখুন।
* শিশুকে নিজে নিজে ঘুমাতে না বলে বরং বিছানা পরিপাটি করে ঝেড়ে, শিশুর হাত-মুখ ধুয়ে বিছানায় নিয়ে শিশুকে আরাম করে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করুন। তাহলে শিশুর সহজেই ঘুম আসবে।