মা হওয়ার আগে তথ্যসমূহ গর্ভধারণের পূর্ব প্রস্তুতি

গর্ভধারণের পূর্ব প্রস্তুতি

মাতৃত্বের প্রস্তুতি


একটি সুস্থ শিশু পরিবারকে দিতে পারে অনাবিল আনন্দ।তাই মা হওয়ার আগে আপনাকে অনেক কিছু নিয়ে পরিকল্পনা করতে হতে হবে যা নিশ্চিত করবে একটি সুস্থ গর্ভধারন ও সুস্থ শিশু। আসুন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক:


শারীরিক প্রস্তুতি:


গর্ভধারণের পূর্বে একজন প্রসূতি বিদ্যায় পারদর্শী ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডাক্তার আপনাকে নিচের বিষয় গুলো নিয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন-


•    পূর্বে গর্ভবতী হয়েছিলেন কিনা? মাসিকের হিসট্রি, কি ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রন পিল ব্যবহার করতেন।এছাড়া সেক্সচুয়ালি ট্রান্সমিটেড কোন ইনফেকশন আছে কিনা?
•    ডায়াবেটিস, অ্যালর্জি, উচ্চ রক্ত চাপ বা অ্যাজমা আছে কিনা বা বাবা মা বা পরিবারের কারোও আছে কিনা। এগুলো থাকলে অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসতে হবে।
•    বর্তমানে কি কি ওষুধ সেবন করছেন সেগুলো ডাক্তারকে জানাবেন কারণ ওষুধগুলো হয়ত বাচ্চার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে বা বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি তৈরী করতে পারে।
•    গর্ভধারণের পূর্বে ধূমপান বা অ্যালকোহল সেবন পরিহার করতে হবে। এগুলো গর্ভের সন্তানের জন্মগত ত্রুটি তৈরী করতে পারে।ক্যাফেইন গ্রহনের ক্ষেত্রে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।গর্ভাবস্থায় ২০০ মি.গ্রা. এর বেশী ক্যাফেইন গ্রহন করা উচিত না।সাধারনত এক মগ ইনসট্যান্ট কফিতে ১০০ মি.গ্রা. ক্যাফেইন থাকে।এছাড়া চা, চকলেট, ও বিভিন্ন ওষুধেও ক্যাফেইন থাকে।
•    স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে।
•    যদি রুবেলা, টিটেনাস বা চিকেনপক্সের টিকা দেয়া না থাকে তাহলে গর্ভধারণের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আপনার চিকিৎসকে সব ধরনের প্রশ্ন করুন ও চিকিৎসকের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিন।যেকোন বিষয় তা যত সামান্য হোক না কেন তা আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন।


মানসিক প্রস্তুতি:


আপনি মানসিক ভাবে প্রস্তুত? গর্ভধারণের পূর্বে কিছু বিষয়ের প্রতি অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। একটি নতুন শিশু আপনাকে জীবনযাত্রায় অনেকখানি প্রভাব ফেলবে।এটা অসম্ভব যে আপনি সবধরনের মানসিক পরিবর্তনের জন্য নিজেকে আগে থেকে প্রস্তুত করবেন কিন্তু মানসিক প্রস্তুতি যদি আগে থেকে নেয়া যায় তাহলে এটা ভবিষ্যতে আপনাকে সাহায্য করবে।কিছু বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখুন:


•    একটা বাচ্চা আপনার কাজের ক্ষেত্রে কতটুকু প্রভাব ফেলবে।
•    এই সময় আপনার সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের হয়ত কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।সঙ্গীর সাথে আপনার শারিরীক ও মানসিক অবস্থা শেয়ার করতে পারেন।গর্ভাবস্থায় শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক অবস্থারও পরিবর্তন আসে তাই আগে থেকেই এই ধরনের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত।