আপনার নবজাতক প্রয়োজনীয় টুলস জন্মগত ত্রুটিসমূহ

জন্মগত ত্রুটিসমূহ

একটি শিশু যদি জন্মের সময় শারীরিক গঠন, কার্যকারিতা বা বিপাক ক্রিয়ার কোনো অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্মায়, তবে তার জন্মগত ত্রুটি রয়েছে বলে ধরা হয়৷ এমন প্রায় চার হাজার ধরনের জন্মগত ত্রুটি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা৷ জন্মগত ত্রুটির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় হৃদ্যন্ত্রের মধ্যবর্তী দেয়ালে ফুটো বা ভালভের ত্রুটি৷ এর পরই আছে স্পাইনা বিফিডা বা মেরুদণ্ড দ্বিখণ্ডিত হয়ে জন্মানো, ঠোঁট কাটা বা তালু কাটা, পায়ের পাতার সমস্যা বা ক্লাব ফুট ইত্যাদি৷

কেন ত্রুটি?
গবেষকেরা বলছেন যে অন্তত ৬০ শতাংশ জন্মগত ত্রুটির পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না৷ তবে কিছু বিষয় অনাগত শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে৷ যেমন:
গর্ভকালীন সংক্রমণ: বিশেষ করে রুবেলা বা জার্মান মিজলস, সাইটোমেগালো ভাইরাস, টক্সোপ্লাজমা ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণ৷ এমনকি সাধারণ জলবসন্তও বাড়িয়ে দিতে পারে ঝুঁকি৷
ওষুধ ও ক্ষতিকর রাসায়নিক: নানা রকমের ওষুধ সেবন, অ্যালকোহল ও নেশাদ্রব্য সেবন এর জন্য দায়ী হতে পারে৷ প্রাকৃতিকভাবে ক্ষতিকর রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদিও বাড়িয়ে দিচ্ছে এই সমস্যা৷

রোগবালাই: মায়ের অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা কোনো জটিল রোগের কারণে শিশু ত্রুটি নিয়ে জন্মায়৷

জিনগত: পরিবারে জিনগত রোগ থাকলে রক্তসম্পর্কের আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়৷
পুষ্টিহীনতা: মায়ের অপুষ্টি, বিশেষ করে ফলিক অ্যাসিড বা আয়োডিনের অভাবকে অনেক সময় দায়ী করা হয়৷

প্রতিরোধের উপায়:

বেশ কিছু ক্ষেত্রে জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ করা যায়৷ যেমন:
-গর্ভকালে ধূমপান, অ্যালকোহল বা যেকোনো নেশাদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন৷
-মায়ের সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করুন৷ গর্ভকালীন প্রাথমিক সময়ে ফলিক অ্যাসিড সেবন স্নায়ুরজ্জুর অস্বাভাবিকতাকে রোধ করে বলে প্রমাণিত৷ তাই বাচ্চা নেওয়ার পরিকল্পনার সময় থেকেই এটি শুরু করে দেওয়া যায়৷
-কীটনাশক, ক্ষতিকর রাসায়নিক বা তেজস্ক্রিয়তা থেকে এড়িয়ে চলুন৷
-আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহকে নিরুৎসাহিত করুন৷ কিছু পরিবারে অর্ধপ্রকাশিত রোগ ওই পরিবারের মধ্যে বিবাহের কারণে উত্তরসূরির মধ্যে পূর্ণভাবে প্রকাশিত হতে পারে৷
-পরিকল্পিতভাবে গর্ভধারণ করুন৷ গর্ভধারণের আগে হেপাটাইটিস, রুবেলা ইত্যাদি টিকা নিয়ে নিতে পারেন৷ গর্ভধারণের আগে ও পরে রক্তে শর্করা, থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা দেখে নিন৷
-গর্ভকালীন অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন৷ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না৷ আগে থেকে নিয়মিত সেবন করছেন এমন ওষুধ যেমন মৃগী রোগের, মানসিক রোগের ওষুধ, উচ্চ  শিশুরক্তচাপের বা থাইরয়েডের ওষুধ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন৷  নিউরোসার্জারি বিভাগ, জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতাল|