হবু মায়েদের জন্য তথ্যসমূহ প্রাথমিক উপসর্গ ও লক্ষণসমূহ

গর্ভাবস্থায় সাধারন উপসর্গসমূহঃ

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে নানারকম পরিবর্তন হয়। এজন্য অনেক উপসর্গ দেখা যায়। কিন্তু কোনটাই সাধারণত মারাত্মক হয় না। গর্ভকালে অথবা প্রসবের পর উপসর্গগুলো চলে যায়। তাই এইসব উপসর্গের সাথে নিজেকে কিভাবে মানিয়ে নেয়া যায় তার জন্যে কিছু নিয়ম করে চলতে হবে জেনে নিন নিয়মগুলো...


বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া : পঞ্চাশ ভাগ গর্ভবতী মায়ের গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে এ সমস্যা হয়। মাসিক বন্ধ হওয়ার পর থেকে চৌদ্দ সপ্তাহ পর্যন্ত এ সমস্যা থাকে। অনেক সময় সমস্ত গর্ভাবস্থাই হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার পর বমি বমি লাগে অথবা বমি হয়। দিনের অন্য সময়ও বমি হতে পারে। এজন্য প্রথমত মাকে আশ্বস্ত করতে হবে। বমি খুব বেশী না হলে মায়ের স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হয় না। শুকনা টোস্ট বা বিস্কিট, আদা চা খাওয়া, চর্বি এবং মশলাযুক্ত খাবার কম খাওয়া এবং বমি খুব বেশী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


ঘন ঘন প্রস্রাব : গর্ভাবস্থায় সব সময়ই হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন এবং পেলভিক রক্তনালী দিয়ে বেশী রক্ত যাওয়াই এর কারণ। গর্ভাবস্থায় শেষের দিকে জরায়ু বড় হয়ে মূত্রথলিতে চাপ দেয়ার জন্য ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।


কোষ্ঠ কাঠিন্য : গর্ভকালে হরমোনের পরিবর্তনের জন্য খাদ্যনালীতে খাদ্য চলাচলের গতি কমে যায়। এছাড়া জরায়ু বড় হয়ে রেকটামের উপর চাপ দেয়া এবং আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণ করার জন্য গর্ভাবস্থায় মা প্রায়শই কোষ্ঠ কাঠিন্যে ভুগে। প্রতিদিন ছয় থেকে আট গ্লাস পানি এবং আশজাতীয় খাবার খেতে হবে।
পা কামড়ানো : রক্তে ক্যালসিয়াম কমে যাওয়া এবং ফসফরাস বেড়ে যাওয়ার জন্য পা কামড়ায়। পায়ে ম্যাসেজ, গরম সেক এবং নিয়মিত ক্যালসিয়াম সেবন করতে হবে। তাকে গোড়ালী দিয়ে হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।


পায়ে পানি আসা : হরমোনের পরিবর্তন এবং শিরার প্রবাহ জরায়ু দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়ে পায়ে পানি আসে। প্রথমে প্রিত্রকলাস্পশিয়া আছে কিনা সেটা দেখতে হবে। না থাকলে বা কাঁধে শুতে হবে এবং পা উঁচু করে রাখতে হবে।


ব্রেস্টে ব্যথা : সমস্ত গর্ভাবস্থা জুড়েই হতে পারে। চব্বিশ ঘন্টার জন্য ব্রেসিয়ার ব্যবহার এবং আইস ব্যাগ ব্যথা কমাবে।

অবসাদ : গর্ভকালে প্রথম ১২-১৫ সপ্তাহ পর্যন্ত মা অবসাদে ভুগতে পারে। এজন্য তাকে দিনের বেলা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে হবে। অনেক সময় রক্ত স্বল্পতার জন্যও মা অবসাদে ভুগতে পারে।


চুলকানি : ২০ ভাগ গর্ভবতী মায়েদের এ সমস্যা থাকে। পেট বড় হওয়ার জন্য পেটের চামড়ায় টান পড়ায় চুলকানী হয়। অনেক সময় হরমোন পরিবর্তনের জন্য হাত ও পায়ের পাতা চুলকায়। এজন্য ভেজিটেবল অয়েল বা ভিটামিন ই যুক্ত ক্রীম ব্যবহার করা যায় এবং সাবান ব্যবহার কম করা ভাল। গর্ভাবস্থার শেষের দিকে লিভারের অসুবিধার কারণে অনেক সময় চুলকানি হয়।*নিম পাতা আর লবন দিয়ে পানি ২০মিনিট সেদ্ধ করুন এরপর ফ্যানের নিচে রেখে কুসুম গরম অবস্থায় আসলে না। এভাবে তৈরি করা পানি দিয়ে প্রতিদিন গোসল করবেন।কোন তেল,লোশন,সাবান ব্যবহার করবেন ।