হবু মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় টুলস গর্ভাবস্থায় রোজা

গর্ভাবস্থায় রোজা

যদি আপনি স্বাস্থ্যবতী হোন এবং গর্ভাবস্থায় আপনি জটিলতা মুক্ত থাকেন, তবে রোজা রাখলে আপনার কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

তারপরেও আপনি রোজা রাখতে পারবেন কি পারবেন না, তা জানতে রোজার পূর্বেই আপনার ডাক্তারের মতামত নিন। একজন পুষ্টিবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলে নিন এবং একটি সুষশ খাদ্য তালিকা অনুসরণ করুন।

তবে এ গ্রীষ্মকালে রোজার কারণে দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার ফলে আপনি এবং আপনার গর্ভের শিশু প্রয়োজনীয় খাদ্য ও তরল থেকে বঞ্চিত হবে,তাই ইফতার থেকে সেহেরী পর্যন্ত পানি আর পুষ্টিকর খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। যদি আপনি রোজা রাখেন, তবে ইফতারের সময় অতিরিক্ত খাবার খাবেন না।  

রোজা রাখার ফলে আপনার পরিপাক ক্ষমতা ধীর হয়ে যায়, তাই ইফতার করতে হবে যথাসম্ভব ধীরে। প্রথমে ছোট এক গ্লাস ফলের রস বা পানি পান করুন। এরপর অল্প খাবার গ্রহণ করুন। এক বা দুই ঘন্টা পরপর বারবার অল্প করে খাবার খান। প্রচুর পরিমাণ তরল এবং পানি পান করুন।

দিনের বেলায় কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম গ্রহণ করুন। রোজা রাখার সময় কোন শ্রমসাধ্য কাজ বা ব্যায়াম করা যাবেনা। একটি খাবারের ডায়েরী সাথে রাখা উচিত। তাহলে আপনি কখন কি খাচ্ছেন তা সহজেই জানতে পারবেন।
 
আপনার সেহরীতে জটিল ধরণের শর্করা জাতীয় খাদ্য থাকা উচিত, কারণ এই ধরণের খাবার পরিপাক দীর্ঘ সময় লাগে এবং তা সারা দিন ধরে আপনার শক্তি সরবরাহে সাহায্য করবে।

তবে ডুবো তেলে ভাজা খাবার যেমন- বেগুনী (গর্ভাবস্থায় বেগুনী খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত), পিঁয়াজু, আলুর চপ ইত্যাদি খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এই তেল ও চর্বিযুক্ত খাবারগুলো আপনার উদরপুর্তি করলেও তা আপনার পুষ্টির চাহিদা পুরণ করবে না। এগুলো বদহজমও তৈরী করতে পারে।

খাবার শেষ করার সময় সিরাপ নির্ভর খাবার যেমন- জিলাপী খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এর পরিবর্তে এক বাটি তাজা ফলের সালাদ বা দই বডা খেতে পারেন। চা বা কফি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। এগুলো আপনার প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আপনার দেহ থেকে অতিরিক্ত তরল বের করে দেয়। যদি খালি পানি পান করতে একঘেয়ে লাগে তবে দুধ, দই, বরফ এবং ফলমূল দিয়ে তৈরী সালাদ খেতে পারেন।

রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন এবং তারপর বাকি কাজ করুন। ঘুমানোর আগে অন্য কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, তবে অবশ্যই সেহেরী খাবেন। পানিশূন্যতা রোধে ইফতার এবং সেহেরীর মধ্যবর্তী সময়ে প্রচুর পানি পান করুন।

গর্ভাবস্থায় রোজা রাখা সহজ করতে যে বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারেন- দিনের কাজগুলো পরিকল্পনা মাফিক করুন, যাতে আপনি নিয়মিত বিশ্রাম নিতে পারেন। দীর্ঘ পথ হাঁটা এবং ভারি কিছু বহন করা থেকে বিরত থাকুন। ঠান্ডা জায়গায় থাকুন-অন্যথায় খুব দ্রুত আপনার শরীর পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে, যা আপনার বা আপনার বাচ্চার জন্য ভাল নয়।বাচ্চার নড়াচড়া ১২ঘন্টায় ১০-১২বার হচ্ছে কিনা খেয়াল করুন।

কিছু সাধারণ টিপস:
১. স্বাভাবিক দিনের চাইতে রোজার সময় বেশি বিশ্রাম নিন।
২. কর্মজীবী মহিলারা কাজের চাপ কমাতে রুটিন তৈরী করে কাজ করতে পারেন।
৩. যে কোন প্রকারের দুঃশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন।
৪. বেশি সময় রোদে অবস্থান করবেন না।
৫. রাতের খাবারের পর বিশ্রাম নিয়ে একটু হাঁটাহাটি করুন।
৬. পরিমিত পরিমাণে চিনিযুক্ত খাবার খেতে হবে।