আপনার জন্য তথ্যসমূহ বাবার সাথে দূরত্ব কমাতে

বাবার সাথে দূরত্ব কমাতে হবে!

“আমার মা আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু”– এই কথাটির সাথে অধিকাংশ সন্তানই নিঃসন্দেহে একমত
হবেন। কিন্তু বাবা কেন অনেকের ক্ষেত্রেই আমাদের সবচেয়ে ভালো বন্ধু হতে পারেন না? মেয়ে
অথবা ছেলে সন্তান সবারই মা ভীষণ প্রিয়। বাবার সাথে দূরত্ব সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হলো
বাবাকে আমরা অতোটা কাছে পাই না। আর আমাদের সমাজ কাঠামোতে বাবাকে আমরা দেখি
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকায়, কড়া এক রূপে। যদিওবা মেয়েদের বাবা বেশি প্রিয় হয়ে থাকে, ছেলেদের
কাছে বাবার সংস্পর্শ ছোটবেলা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। ছোটবেলা থেকে এই দূরত্ব শুরু হলেও সময়ের
সাথে সাথে দূরত্ব বাড়ে বই কমে না। ছোটবেলায় সন্তানের আবদার-অনুযোগের একমাত্র আশ্রয়স্থল
থাকে মা। বাবার ভূমিকা সন্তানের কাছ থেকে রিপোর্ট কার্ড দেখা, কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাওয়া
ইত্যকার কার্যাবলি পর্যন্ত। এমনকি শহুরে সমাজে সন্তানের অভিভাবক দিবসেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে মা-
ই সন্তানের সাথে গিয়ে থাকেন তার স্কুলে। বাবার সাথে এই দূরত্ব সৃষ্টি কিন্তু সময়ের স্রোতে একদিন
বাবা এবং সন্তান উভয়ের জন্যই আফসোসের বিষয় হবে। চলুন দেখি এই দূরত্ব দূর করার জন্য
বাবা এবং সন্তান উভয়েরই করণীয় কী কী হতে পারে। সন্তান ছোট থাকতেই বাবার কার্যকরী
ভূমিকা শুরু করা উচিত। আর সন্তান যখন অনুভব করছেন যে বাবার সাথে তার দূরত্ব তৈরি
হচ্ছে তখন সন্তানও দূরত্ব দূর করতে এগিয়ে আসতে পারে।

বাবাদের বলছি, আপনি যতোই ব্যস্ত হোন না কেন সন্তানকে সময় দেয়ার চেষ্টা করুন। অফিস থেকে ফেরার পর যদি সন্তানের বাড়ির কাজ দেখানোর দায়িত্বটা আপনার ওপর পড়ে থাকে তাহলে
বাড়ির কাজ দেখানোর পাশাপাশি সন্তানের সাথে স্বাভাবিক গল্প-গুজব করুন। দেখবেন আপনার প্রতি
সন্তানের অহেতুক ভয় দূর হয়ে যাবে।

সন্তানের সকল কাজ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। হয়তো সে ভুল করেছে বা আপনার
কথা শোনেনি তবুও তার সাথে কথাবার্তা সহজ-স্বাভাবিক রাখুন। আপনি যদি রেগে কিছু বলেন,
তাহলে ভয় পেয়ে পরবর্তীতে আপনার থেকে সে কথা লুকোবে। আপনি অবসরে তাকে সুন্দরভাবে
তার করণীয় বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলুন।

গল্পগুজবের পাশাপাশি সন্তানদের নিয়ে বাইরে বেড়াতে যান। সেটা তার কোনো ভালো ফলাফল
উপলক্ষ্যে হতে পারে, তার জন্মদিনেও তাকে নিয়ে বাইরে বেড়াতে যেতে পারেন। সর্বোপরি, তাকে
এই আশ্বাস দিন যে তার সকল প্রয়োজনে আপনি তার নির্ভরতার জায়গা হতে তৈরি আছেন।
সন্তানদের বলছি, আপনার ভূমিকা মূলত দূরে সরে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগানোর কাজে থাকবে।
তাই সবার প্রথমে আপনার বাবাকে বোঝার চেষ্টা করুন। খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন কেন
আপনাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে ভয়ের কারণে দূরত্ব সৃষ্টি হলেও পরে দেখা যায় আর
দূরত্ব ঘোচানো যায় না। এক্ষেত্রে, আপনিই বন্ধুর ভূমিকায় অবতীর্ণ হোন। তার সাথে গল্প করুন,
বাইরে বেড়াতে যান। তার সাথে আপনার ব্যক্তিগত বিষয় আলাপ করুন, মতামত চান। এতোটা
দূরত্বের পর তিনিও নিশ্চয়ই আপনার সাথে সম্পর্ক সহজ করার ইচ্ছা রাখেন। যদি আপনাদের
পছন্দের মিল না থাকে তাহলে বাবাকে বুঝিয়ে বলুন, সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলে যায়।
আপনাদের উচিত আপনাদের পরস্পরের পছন্দ-অপছন্দের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা, বাবাকে এটা সুন্দর করে
গুছিয়ে বুঝিয়ে বলুন। আপনি তাকে গর্বিত করতে চান, তাকে ভালোবাসেন এটা ভালোবাসার সাথে
বুঝিয়ে বলুন।