হবু মায়েদের জন্য তথ্যসমূহ পোশাক

গর্ভবতীর ফ্যাশনেবল পোশাক

 ‘মা’ শব্দটা যেন একজন নারীকে পরিপূর্ণ করে তোলে। বলা হয়,  নারীজীবনের সবচেয়ে সুখময় মুহূর্ত তখনই আসে যখন সে মা হয়। মাতৃত্বের মধুর এই স্বাদ পেতে চান না এমন নারী খুঁজে পাওয়া দায়। আর তাই মাতৃত্বকালীন সময়টাতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন ও সচেতনতা। সেটা হতে পারে অভ্যন্তরীণ সুস্থতার জন্য, আবার বাহ্যিক সৌন্দর্যেরও।

বর্তমানে গর্ভকালীন সময়ে বাহ্যিকভাবে সুন্দর বা পরিপাটি থাকার বিষয়টি আগের তুলনায় আরও বেশি গুরুত্বের সাথে নেয়ার প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। কেননা সংসারের পাশাপাশি এখন একজন নারীকে সমানভাবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রেও। সেক্ষেত্রে দিনের বেশির ভাগ সময় তাকে থাকতে হচ্ছে বাইরে। আবার বিয়ে, জন্মদিন এসব সামাজিক অনুষ্ঠান তো লেগেই থাকে। তাই মাতৃত্বকালীন সময়ে এ সব জায়গায় নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার বিষয়টা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেললে চলবে না।

গর্ভবতী মায়ের রূপচর্চা বা মেকআপের বিষয়ে কমবেশি সবারই ধারণা আছে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে। এই সময়টায় আগের ফিটিং ড্রেসগুলো পরলে যেমন অস্বস্তি লাগে, তেমনি খুব বেশি ঢিলেঢালা পোশাকে আবার ফ্যাশনেবল দেখায় না।

গর্ভবতী মায়েদের এসব সমস্যার কথা মাথায় রেখে দেশীয় ফ্যাশন হাউস সাদাকালো নিয়ে এসেছে মাতৃত্বকালীন পোশাকের সম্ভার। এ বিষয়ে সাদাকালোর স্বত্ত্বাধিকারী তাহসিনা শাহীন জানান, “মাতৃকালীন পোশাকের অভাববোধটা তখন উপলব্ধি করেছি যখন আমি নিজে সেই সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। সন্তান হওয়ার আগের দিন পর্যন্ত আমাকে অফিসে কাজ করতে হয়েছে। তখন মনে হয়েছিল আমাদের দেশেও গর্ভবতী মায়েদের জন্য আলাদা পোশাক দরকার। সেই উপলব্ধি থেকে আমরা এমন কিছু পোশাক ডিজাইন করেছি যা আরামদায়ক এবং মাতৃত্বকালীন সময়ের উপযোগী।”

এ সময়টায় শারীরিক পরিবর্তনের ফলে সব কিছুতেই একটা অস্বস্তিবোধ হয়। তাই যে যা পরে অভ্যস্ত যেমন সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি বা ওয়েস্টার্ন আউটফিট, তা পরাই শ্রেয়।

এ বিষয়ে তাহসিনা শাহীন বলেন, “আমাদের ডিজাইনে আমরা সালোয়ারটাকে ধুতি ধাঁচের করে তৈরি করেছি, যার পুরো উপরটা স্মোক করা অর্থাৎ নরম ও পাতলা ইলাস্টিক দিয়ে ধাপে ধাপে কুচি করা।এতে করে সেটা পেটের কাছে সুন্দর করে বসে থাকে। এর সাথে আছে ছোট এক ছাটের কুর্তা। যা ঘরে বাইরে সব জায়গার জন্য উপযোগী।”

মাতৃকালীন সময়ে কোন অনুষ্ঠান ছাড়া শাড়ি এড়িয়ে চলাই ভাল হবে। সেক্ষেত্রে ব্লাউজটা একটু ঢিলে করে বানাতে হবে এবং শাড়িটাও পরতে হবে ঢিলে করে।

এটাতো গেল সালোয়ার-কামিজ আর শাড়ির কথা। তবে যারা ওয়েস্টার্ন পোশাকে অভ্যস্ত তাদেরও হতাশ হবার কারণ নেই। ড্রেসিডেল এর সিইও মায়া রাহমান জানান, “যারা ওয়েস্টার্ন আউটফিট পরে থাকেন, তারা এই সময়টাতে বিভিন্ন প্যাটার্নের টিউনিক পরতে পারে। তবে বেলুন প্যাটার্নের টিউনিক পরলে ভাল লাগবে। এটা পেটের কাছে লুজ হবে। ফলে আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল দু’টোই হবে। শীতের সময় উলেন বা পাতলা পঞ্চ পরা যেতে পারে। এর সাথে ডিভাইডার ভাল মানাবে। কিন্তু পেটের কাছে ঢিলে থাকতে হবে।  এটা সব জায়গায় পরা যাবে। আর শোবার সময় লুজ ফিটিং নাইটি পরলে ভালো।” সেই সাথে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে পোশাকের কাপড়টা যেন ন্যাচারাল ফাইবার যেমন সুতি বা সিল্ক এর তৈরি হয়।

মাতৃকালীন সময়টাতে কোথাও যদি গয়না পরে যেতে চান তাহলে ভারী গয়না না পরে যতটা সম্ভব হালকা কিছু পরলে ভাল লাগবে। হাতের ব্যাগটাও যেন ভারী এবং বড় না হয় সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। পায়ের জুতোটাও কিন্তু ফ্ল্যাট হওয়া চাই। এই সময় হিল পুরোপুরি এড়িয়ে যেতে হবে।

তাহলে আর চিন্তা কিসের? মাতৃকালীন সময়েও হয়ে উঠুন ফ্যাশনেবল। - সূত্র: অনলাইন