মা হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় টুলস উপযুক্ত বয়স

মা হবার উপযুক্ত বয়স

মা হবার সঠিক সময় কখন? আমরা মেয়েরাতো বড় হবার সময় এ-নিয়ে অনেক চিন্তা-ভাবনা করি।


এই প্রশ্নটির উত্তর খুব সহজ নয়।


একদিকে আমরা চাই শিক্ষা, কর্মক্ষেত্রে সাফল্য, আদর্শ স্বামী আর সুন্দর ঘর। অন্যদিকে আমাদের বয়স বাড়তে থাকলে মা, শাশুড়ি, খালা, চাচী, এমনকি প্রতিবেশী সুযোগ পেলেই মনে করিয়ে দেন যে ছোট শিশুটির পায়ের আওয়াজ শোনার এটাই সময়।


মাতৃত্বের দুটি দিক নিয়ে আমরা আলোচনা করব যা মা হবার জন্য আপনি কতটা প্রস্তুত তা বুঝতে সহায়ক হবে।


২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে সন্তান নেয়ার সুবিধা অনেক। এ কারণে ডাক্তার এবং অনেক গুরুজনেরা ২৫-২৬ বছর বয়সের দিকে প্রথম সন্তান নেয়ার পরামর্শ দেন। আপনার শরীর তখন অনেক নমনীয় থাকে এবং ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে আপনি সবচেয়ে স্বাস্থ্যবতী অবস্থায় থাকেন। তখন আপনার শারীরিক সক্ষমতাও বেশি থাকে, যার ফলে আপনি তখন বাচ্চা লালন-পালনের চাপ ভালোভাবে সামাল দিতে পারেন।


মহিলারা প্রথম সন্তান তাড়াতাড়ি নিলে এরপর আবার দ্রুত গর্ভবতী হবার প্রবণতা দেখান। এতে অপুষ্টি এবং রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। অল্প বয়সে সন্তান নিলে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের (cervical cancer) ঝুঁকি বেড়ে যায়। কম বয়সে বাচ্চা নেয়ার কারণে আপনি শিক্ষা, চাকরি বা ব্যবসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন অথবা এসব ক্ষেত্রে অন্যদের চাইতে পিছিয়ে পড়তে পারেন। মায়ের দায়িত্ব পালন করা তখন কঠিন মনে হতে পারে। কম বয়সে বাচ্চা নিলে প্রসব পরবর্তী বিষণ্ণতায় (postnatal depression) ভোগার ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে।


আজকাল অনেক মহিলাই ৩০ বছর বয়স বা তারও পরে মা হবার কথা ভাবেন। নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, গর্ভকালীন এবং প্রসবোত্তর উন্নত যত্ন, এবং ঢাকার হাসপাতালগুলোর কার্যকরী নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট (neonatal intensive care units ) এবং ফার্টিলিটির উন্নত চিকিৎসা (fertility treatments) ব্যবস্থার সুবাদে ৩৫ বছর বয়সে বাচ্চা নেয়ার কথা ভাবতে পারেন।


মহিলারা সাধারনত ত্রিশের পর পেশাগত লক্ষ্যগুলো অর্জন করে একটি সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছে যান, যখন তাঁরা শিশুপালনে সময় দিতে পারেন। শিশুর যত্ন নেয়ার জন্য যেসব ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তা করতে তারা তখন আগ্রহী থাকেন। তারা কম বয়সি মায়েদের মত নিজদেরকে জীবনের অন্যান্য দিকগুলো থেকে বঞ্চিত মনে করেন না। এছাড়া আর্থিক নিশ্চয়তা, শিক্ষা, এবং মানসিক স্বস্তি তাদেরকে ভাল মা হতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দিলে তারা স্কুলে বেশ ভাল করে এবং তাদের স্বাস্থ্যও ভাল থাকে।


তবে বাচ্চা নিতে দেরি করার কিছু ঝুঁকি আছে। তখন গর্ভধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক মহিলারই তখন গর্ভধারণের জন্য বিশেষ চিকিৎসা (fertility treatment) এবং অনেকক্ষেত্রে কৃত্রিম নিষিক্তকরন (in vitro fertilisation -IVF) পদ্ধতির সাহায্য নেয়ার প্রয়োজন পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে বেশি বয়সে মায়েদের সিজারিয়ান সেকশনের (Caesarean section) দরকার হয় বেশি।


বেশি বয়সে মা হওয়ার আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গর্ভপাত, স্থানচ্যুত গর্ভধারণ (ectopic pregnancy), এবং স্বতপ্রনোদিত রক্তপাত (spontaneous bleeding) এর ঝুঁকি। ৩৫ বা ৪০ বছরের বেশি বয়সের মায়েদের সন্তানদের ক্রোমজমের অস্বাভাবিকতাজনিত সমস্যা যেমন ডাউনস সিণ্ড্রোমের সম্ভাবনা বেশি থাকে। মৃত শিশু জন্মানোর সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এর কারণ হল বেশি বয়সের মেয়েদের জরায়ুতে বেশি সময় থাকার ফলে ডিম্বাণুগুলো বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) এবং তেজস্ক্রিয়তার (Radiation) প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হয়।


মা হওয়ার উপযুক্ত বয়সটি কখন হবে তা নির্ভর করে আপনার ও আপনার সঙ্গীর উপর।, কিন্তু মনে রাখবেন শিশুর সুস্বাস্থ্য নির্ভর করে পুরোপুরি আপনাদের উপরে। একজন স্বাস্থ্যবতী মা মানে একটি সুস্থ পরিবার।