স্বাস্থ্য সুরক্ষা তথ্যসমূহ থাইরয়েড সমস্যা

থাইরয়েড সমস্যা: কারণ, লক্ষন ও চিকিৎসা

থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে সাধারণত দুই ধরণের সমস্যা দেখা যায়, গঠনগত ও কার্যগত। গঠনগত সমস্যায় থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় যেটাকে গয়টার বল হয়। কার্যগত সমস্যা দুই রকমের হয়ে থাকে তা হল হাইপারথাইরয়ডিজম ও হাইপোথাইরয়ডিজম। হাইপারথাইরয়ডিজমে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে ও হাইপোথাইরয়ডিজমে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করেনা।


থাইরয়েড সমস্যা হওয়ার কারণ


১। হাইপোথাইরয়ডিজম মূলত তিনটি কারণে দেখা যায়। নবজাতক শিশুদের মধ্যে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড তৈরি না হলে কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজম দেখা যায়। এছাড়া অটোইমিউন হাইপোথাইরয়ডিজম দেখা যায়। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সক্রিয় হলে হাইপোথাইরয়ডিজম নষ্ট হয়ে যায়। তখন থাইরয়েড গ্ল্যান্ড কাজ করেনা। চিকিৎসাজনিত কারণেও এই অসুখ হতে পারে। অপারেশনের কারণে থাইরয়েড গ্ল্যান্ড বাদ দিতে হলে বা অন্য কারণেও থাইরয়েড নষ্ট হয়ে গেলে এই সমস্যা হতে পারে।


২। অ্যান্টিবডি অতিরিক্ত মাত্রায় থাইরয়েডকে স্টিমুলেট করলে হাইপারথাইরয়ডিজমের সমস্যা দেখা দেয়। চূড়ান্ত পর্যায়ের পর ওষুধ এর ডোজ বেশি হলে তার থেকে হাইপারথাইরয়ডিজম হতে পারে। থাইরয়ডাইটিসে রক্তে থাইরয়েডের মাত্রা বেড়ে যায়।


৩। যেসব অঞ্চলে আয়োডিনের অভাব রয়েছে সেখানে আয়োডিনের অভাব জনিত কারণে হাইপোথাইরয়ডিজম দেখা যায়।


হাইপোথাইরয়ডিজমে যে লক্ষনগুলো দেখা দেয়


১। অবসাদগ্রস্থ হওয়া, সাথে অলসতা, ঘুম, ঘুম ভাব।
২। ত্বক খসখসে হয়ে যায়।
৩। পা অল্প ফুলে যায়।
৪। ক্ষুধা মন্দা শুরু হয়।
৫। চুল পড়তে শুরু করে।
৬। ওজন অল্প বেড়ে যায়, ৫-৬ কিলো বেড়ে যেতে পারে।
৭। স্মৃতিশক্তি কমে যায়।
৮। মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
৯। কোষ্ঠকাঠিন্য শুরু হয়।
১০। ব্লাড প্রেশার বাড়তে পারে।
১১। বন্ধ্যাত্বর সমস্যা হতে পারে।
১২। গর্ভধারণকালে গর্ভপাত হতে পারে।
১৩। কনজেনিটাল হাইপোথাইরয়ডিজমে শিশুর ব্রেনের বিকাশ হয়না।
১৪। শীত শীত ভাব দেখা যায়।
১৫। পিরিয়ডের সমস্যা হতে পারে।


হাইপারথাইরয়ডিজমে যে সমস্যা দেখা দেয়


১। ক্ষুধা বেড়ে গেলেও ওজন কমতে থাকে।
২। প্রচন্ড গরম লাগে।
৩। বুক ধড়ফড় করে।
৪। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
৫। পিরিয়ডের সমস্যা দেখা দেয়।
৬। ত্বক কালো হয়ে যায়।
৭। হার্টের সমস্যা হতে পারে।
৮। ব্লাড প্রেশার বেড়ে যায়।
৯। হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়।
১০। চোখ কোটর থেকে বেরিয়ে আসে।
১১। হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা শুরু হয়।
১২। বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।


থাইরয়েডের চিকিৎসা


১। থাইরয়েডের সমস্যা নির্ধারণের জন্য ব্লাড টেস্ট করান।
২। হাইপোথাইরয়ডিজমের চিকিৎসা ওষুধের মাধ্যমে করা হয়। হাইপারথাইরয়ডিজমের চিকিৎসায় ওষুধ দেয়া হয়। ওষুধে কাজ না করলে সার্জারি বা রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন থেরাপির কথা ভাবা হয়।
৩। গয়টারের সমস্যা হলে ফোলা অংশ মেলিগনেন্ট কি না তা নির্ণয় করা হয়। FNAC টেস্ট করা হয়। মেলিগনেন্ট নির্ধারিত হলে ও শুরুর দিকে ধরা পড়লে রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন পদ্ধতির মাধ্যমে থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব।
৪। আয়োডিনের অভাব জনিত কারণে থাইরয়েডের সমস্যা হলে আয়োডাইজড সল্ট খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।