মা হওয়ার আগে তথ্যসমূহ আপনার খাওয়া-দাওয়া

মা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আপনার খাওয়াদাওয়া:

গর্ভধারণ নিয়ে অধিকাংশ সময়ে মেয়েরাই সমস্যার সম্মুখীন হয়। কোন কোন সময় মুক্তি দিতে পারে শুধু কিছু খাদ্যাভাস। গবেষকরা এ সমস্যার সমাধান বের করতে গিয়ে কিছু খাবার নির্ধারণ করেছেন। যা পারে একটি মেয়েকে তারা সন্তান ধারণে উর্বরতা শক্তি বাড়িয়ে দিতে। এমনই কিছু
খাবারের তালিকা তুলে ধরা হলো…..
 
ডিম :
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নারীদের উর্বরতা বাড়াতে ডিম খেতে বলেছেন। সম্প্রতি তারা এক গবেষণায় পেয়েছেন মাত্র ৭% নারীর শরীরে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ডি আছে। বাকি সবাই ভিটামিন ডি-এর কম মাত্রায় ভুগছেন। তাই নারীদের তারা ডিম খেতে বলেছেন। কারণ ডিমে প্রচুর ভিটামিন ডি আছে।

কলা :
কলায় ভিটামিন বি-৬ আছে যা নারীদের নিয়মিত মাসিক হতে সহায়তা করে। এছাড়া দুর্বল ডিম্বাণু সবল করে উর্বরতা বৃদ্ধি করে। কলা হরমোনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে তাই গবেষকরা নারীদের কলা খেতে পরামর্শ দেন।

বাদাম :
বাদামে আছে প্রচুর পরমাণে ভিটামিন-ই। নিয়মিত বাদাম খেলে শরীরে ভিটামিন-ই-এর চাহিদা পূরণ হবে। যা উর্বরতা বাড়াতে সাহায্য করবে তাছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণ এ্যন্টি-অক্সিড আছে। যা ডিম্বাণুকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।

মটরশুঁটি :
মটরশুঁটিতে আছে প্রচুর জিংক। যা নারীদের হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখে। জিংক এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টরনের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই নিয়মিত মটরশুঁটি খাওয়া উচিত।
 
লেবু :
টকজাতীয় ফল যেমন লেবু শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে নারীদের গর্ভধারণে সহায়তা করে।

তাই হাতের কাছে পাওয়া এসব খাবার নিয়মিত খেলে অনেক বড় ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এসব খাবারের পাশাপাশি সব্জি,সালাদ বেশি পরিমানে খেতে হবে।
প্রতিদিন আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুব প্রয়োজন।


আঁশসমৃদ্ধ খাবারের তালিকাঃ


শাক- কচুশাক, মিষ্টি আলুর শাক, কলমি শাক, পুদিনা পাতা, পুঁইশাক, মুলা শাক, ডাঁটা শাক, লাউ ও মিষ্টি কুমড়ার আগা-ডোগা শাকে প্রচুর আঁশ রয়েছে।সবজি- অপেক্ষাকৃত বেশি আঁশযুক্ত সবজির মধ্যে রয়েছে সাজনা, কলার মোচা, ঢেঁড়স, ডাঁটা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ওলকপি, গাজর, শিম, পটল, কচু, বেগুন, বরবটি ও মটরশুঁটি।ফল- আঁশজাতীয় ফলের মধ্যে সবেচেয় বেশি আঁশ অংশ থাকে বেল, পেয়ারা, কদবেল, আমড়া, আতাফল, নারিকেল, কালোজামের মধ্যে। তা ছাড়াও গাব, কামরাঙ্গা, পাকা টমেটো, পাকা আম, পাকা কাঁঠাল, আপেল ও আমলকীর মধ্যে মাঝারি পরিমাণে আঁশ থাকে।
ডাল- মটর, মুগ ও ছোলার ডালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আঁশ পাওয়া যায়।

চর্বিহীন মাংস হিসেবে মুরগী খেতে হবে প্রোটিনের অংশ পূরণের জন্য। পাশাপাশি ডাল,ডিম,দুধ আছে প্রোটিনের উৎস হিসেবে।

মাছ প্রোটিনের একটি বড় উৎস তবে মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে একটা নিয়ম করে খেলে ভাল যেমন সামুদ্রিক মাছে আছে আয়োডীন,মাছের তেলে আছে ভিটামিন ডি। এক্ষেত্রে তৈলাক্ত মাছ,সামুদ্রিক মাছ খেতে হবে সপ্তাহে একবার।এছাড়া শিং মাছ,কই মাছ এসব মাছ খুবি উপকারি।নিয়ম করে খেতে হবে মাছ খেলে মাংস নয় এভাবে।খেয়াল রাখতে হবে প্রোটিনের আধিক্য যেন না হয়।

ক্যালসিয়াম আছে এমন খাবার খুবই জরুরী। ক্যালসিয়ামের প্রধান উৎস হলো দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য।এক্ষেত্রে চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে ছানাবিহীন ১গ্লাস দুধ,১টি ডিম,১টি কলা,দুপুরের খাবারের পর দই খাওয়া। দুধ ছাড়া ক্যালসিয়ামের অন্যান্য উৎসের মধ্যে কাঁটাসহ ছোট মাছ, ডিমের কুসুম, শিমের বিচি, সবুজ শাক-সবজি, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, কচুশাক, ঢেঁড়শ ইত্যাদিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম আছে।

দেহে আয়রনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার।
যেমনঃ গরুর কলিজা,ডিমের কুসুম, কচুশাক, কাঁচকলা, ফলের মধ্যে ডালিম,কালজাম এ প্রচুর আয়রন রয়েছে।
সবশেষে বলা প্রয়োজন ফাস্টফুড,প্যাকেটজাত খাবার,ভাজাপোড়া,তৈলাক্ত খাবার একেবারেই খাওয়া যাবেনা।

 

খাবারের এই তালিকার উদ্দেশ্য হল সুস্থ ও স্বাভাবিক গর্ভধারণে সহায়তা।খাবারের নিয়মের মাধ্যমে আপনি শারিরীকভাবে সুস্থ থাকবেন আর আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণ  সম্ভব।আপনার গর্ভধারণ সময় অনেক সহজ হতে পারে  যদি আপনার ওজন ঠিক থাকে । কম অথবা অধিক শারীরিক ওজন আপনার  জন্য গর্ভধারণ করা  কঠিন হতে পারে।